• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ৯ বছরে কোটিপতি! দুদকে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ

Reporter Name / ৮৯৫ Time View
Update : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ৯ বছরে কোটিপতি! দুদকে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দুর্নীতি সমাচার:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন-৫, কাওরানবাজার কার্যালয়ের ইমারত পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে অভিযোগকারী ব্যক্তি বিস্তারিতভাবে মনিরুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের তথ্য দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের অফিসে ‘ঘুষের সিন্ডিকেট’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন। মহাখালী জোন-৩/১ থেকে শুরু করে বর্তমানে জোন-৫ কার্যালয়ে তিনি নকশা অনুমোদন, ভবন পরিদর্শন এবং ফাইল প্রসেসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঘুষ ছাড়া সম্পন্ন করেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক চীফ হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম. ফিরোজের প্রভাব ও ছত্রছায়ায় থেকে মনিরুজ্জামান গত ৯ বছরে কোটিপতি বনে গেছেন। ঢাকায় তার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা) ও ব্যক্তিগত গাড়ি (মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা) রয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চেয়ারম্যান বাজারে তিনতলা ভবন, বরিশালের কাশিমপুরে পাঁচতলা ভবন এবং নিজ গ্রামে প্রায় ৯৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই।

অভিযোগে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও উল্লেখ করা হয়—

  • সরকারি চাকরির মাত্র ৯ বছরে কোটি টাকার অঘোষিত সম্পদ অর্জন;

  • ঘুষ ও প্রভাব ব্যবহার করে রাজউকের কাজ আদায়;

  • ঠিকাদার ও জমির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়;

  • বিভিন্ন জেলায় ফ্ল্যাট ও জমি কেনা;

  • সাবেক এমপির ছত্রছায়ায় থেকে দায়মুক্তির মানসিকতা।

এ বিষয়ে মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণ বা নকশা অনুমোদনের মতো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়াটা এখন প্রায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মনিরুজ্জামান তার একটি উদাহরণ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুতর। প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হলে তার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ বেরিয়ে আসবে।”
রাজউকের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেন, “দুদক বা লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”


More News Of This Category
bdit.com.bd