• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

বেনাপোল থেকে সিলেট: অভিযোগের পাহারের মাঝেই উচ্চপদে সুব্রত কুমার চক্রবর্তী — কোটি টাকার সম্পদ, বিদেশে বাড়ি, ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগে ঝড়

Reporter Name / ৮৪৮ Time View
Update : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছিল তার দুর্নীতির সাম্রাজ্য। বেনাপোল কাস্টমসে দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রভাবশালী অবস্থানকে অস্ত্র বানিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন সুব্রত কুমার চক্রবর্তী—এমন অভিযোগ বহুদিনের। বদলির আদেশে সিলেট এটিআইয়ের অধ্যক্ষ হলেও তার অতীতের ভারী দুনীতি, পাচার, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কাহিনি আজো পিছু ছাড়ছে না।

সরকারি নথির বাইরে গোপনে পরিচালিত সিন্ডিকেট, ফাইল গায়েব, কাগজপত্র কারসাজি, ঘুষ–বাণিজ্য, মামলার আদেশ পরিবর্তন—সব মিলিয়ে সুব্রত কুমার চক্রবর্তী ছিলেন বেনাপোলের ‘ছায়া নিয়ন্ত্রক’। কর্মকর্তারা বলছেন—তার অনুমতি ছাড়া কোন চালান ছাড় হতো না, আর তার নির্দেশ ছাড়াও কোন কর্মকর্তা বদলি হতে পারতেন না। অভিযোগ রয়েছে—ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা, ব্যবসায়ীদের হয়রানি, হুমকি–ধমকি দেওয়া ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন।

 

অবৈধ সম্পদ: সীমান্ত থেকে বিদেশে পাচার

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর চিত্র। বেনাপোল সীমান্তে অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত টাকা নিয়মিতভাবে ভারতে পাচার করতেন তিনি। কলকাতায় সুব্রতের নামে ৬ তলা তিনটি বাড়ি। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ তলা দুটি ভবন—মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, ঝিনাইদহে তার বিলাসবহুল তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়িটি আজ স্থানীয়দের চোখে প্রতীকী ‘দুর্নীতির স্মারক’। ঢাকার পূর্বাচলে ৮–১০টি প্লট, উত্তরা–গুলশানে ফ্ল্যাট, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা—সব মিলিয়ে কয়েক শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন তিনি।

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকাকে ‘সাদা’ করতে বই প্রকাশ, নীতি–নির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, উপহার দেওয়া এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে স্পনসর—এসব ছিল সুব্রতর বহুল ব্যবহৃত কৌশল। তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল “একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সুপরিকল্পিত ইমেজ–ম্যানেজমেন্ট কৌশল।”

স্ত্রীও জড়িত চোরাচালানে

সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় সুব্রতের স্ত্রী স্বর্ণবারসহ চোরাচালান চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তার স্ত্রী ধরা পড়ার পরও মামলাটি রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যায়। কাস্টমস সূত্র বলছে—এই ঘটনার পরও সুব্রত কুমার চক্রবর্তী তার পদেই বহাল ছিলেন, যা প্রমাণ করে তিনি কতটা শক্তিশালী অভিভাবকত্ব পেয়েছিলেন।

 

রাজনীতির ছায়ায় দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানা

কর্মকর্তাদের অভিযোগ—আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুব্রত ছিলেন “বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা।” দলীয় অনুগতদের বিপুল অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিয়মিত উপহার দেওয়া, বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা আদায়—এই কাঠামো তাকে দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষা করেছে।
বেনাপোল, ঝিনাইদহ ও ঢাকার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—

“তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়ত। কারণ সুব্রতের পেছনে বড় শক্তি ছিল।”

জনগণের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি

অভিযোগে বলা হয়েছে—কাস্টমসের মাধ্যমে প্রতিদিন যে রাজস্ব আসে, তার একটি বড় অংশ প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লোপাট হয়েছে, যেখানে সুব্রত ছিলেন অন্যতম নিয়ন্ত্রক। এতে বছরে কয়েক শ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর।

নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে ‘ভয়ঙ্কর হিসাব’

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে—দুদক, যৌথ বাহিনী, শুল্ক গোয়েন্দা এবং সর্মিপ্ত মন্ত্রণালয় যদি সুব্রতের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে, তাহলে আরও অজস্র চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হবে। প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে বিদেশে বহুতল ভবন, দেশে শত কোটি টাকার সম্পদ, জমি–প্লট, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমাতে পারে?

 


More News Of This Category
bdit.com.bd