দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ.টি.এম. জাফরুল আজম মিলে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোটি টাকার লেনদেনের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগে ১০–১৫ লাখ টাকা এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে ৪০–৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকা অবস্থায় অধ্যাপক আবু ইউসুফ তড়িঘড়ি করে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক–এ একমাত্র বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৫ অক্টোবর, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় অনেক প্রার্থী আবেদন জমা দিতে পারেননি।
এ সময় মোট ৩টি অধ্যক্ষ ও ২টি উপাধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, আবু ইউসুফের নির্দেশে অনেক আবেদন ‘গায়েব’ করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আবু ইউসুফ ও জাফরুল আজমের আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানো হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, গভর্নিং বডির মেয়াদ ১৭ সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গেলেও নতুন কমিটি অনুমোদনের আগেই আবু ইউসুফ নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনো কোনো মেয়াদ-বর্ধিত অনুমোদন না আসলেও তিনি অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অধ্যাপক ইউসুফ নীল দলের সদস্য এবং বিগত সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে করা অডিট রিপোর্টে ৪১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও আবু ইউসুফ সেটি প্রকাশ করেননি। বরং অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা দিয়েছেন।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্ম মোহাম্মদ এ জামান অ্যান্ড কো.–এর প্রতিবেদনে কলেজের আয়-ব্যয়ে অসামঞ্জস্য, বিল–ভাউচারবিহীন ব্যয়, অতিরিক্ত নগদ লেনদেন এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া, ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় নির্ধারিত জমি শেষ পর্যন্ত ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয়, যা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অধ্যাপক আবু ইউসুফ জানান, “গভর্নিং বডির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, আমি বৈধ চেয়ারম্যান।” তবে তিনি স্বীকার করেন, “২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে পাস কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ.টি.এম. জাফরুল আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং আর কথা বলেননি।
শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।