জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, তাদের হেরে যাওয়ার আভাস ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা ইতোমধ্যেই ‘লালকার্ড’ দেখিয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণরায়ের মাধ্যমে সেই লালকার্ড চূড়ান্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পুরোনো হোক বা নতুন—যে নামেই আসুক না কেন, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাদের অতীতেও অনৈতিকতার অভিযোগ ছিল এবং যারা এখনো লোভ সামলাতে পারেনি, তাদের হাতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তুলে দেওয়া যায় না। তিনি দাবি করেন, দখলদারিত্ব ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বর্তমানে জামায়াত নেতাকর্মীরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাণিজ্য ও হয়রানিতে জড়িত নয়, তাদের উল্টোভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে চোখ খুলে বাস্তবতা দেখার আহ্বান জানান।
ভোটকেন্দ্র পাহারার নির্দেশনা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান তারা। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ভোট ডাকাতি ও কারচুপি রোধে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে নতুন বাংলাদেশ এবং পুরোনো রাজনীতিকে লালকার্ড। তার ভাষায়, যে রাজনীতি সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত—তা ১২ তারিখ প্রত্যাখ্যাত হবে।
জনসভা থেকে তিনি রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই সভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিনি গোদাগাড়ীতেও আরেকটি জনসভায় অংশ নেন।