• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সরকারি হাসপাতালের দালাল, টেস্ট বাণিজ্য ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন এমপি ফজলুল হক মিলন টানা ৫ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণের শঙ্কা ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানারও যোগ্য?’— রাশেদ খাঁনের কড়া প্রশ্ন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের গ্রেফতারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ হরমুজ প্রণালি খুলতে ওমানকে নতুন প্রস্তাব ইরানের, না মানলে বন্ধই থাকবে নৌপথ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার, শেষ হলো ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায় ‘ধুম ফোর’ নিয়ে মুখ খুললেন রণবীর কাপুর, গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেতা সীমান্ত ব্যাংকে ‘কল সেন্টার সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগ, আবেদন ৪ আগস্ট পর্যন্ত চিতলমারী থানা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটিকে দুর্নীতি সমাচার পরিবারের অভিনন্দন

সরকারি হাসপাতালের দালাল, টেস্ট বাণিজ্য ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক / ০ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টেস্ট বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন এবং স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেও অনেক চিকিৎসক পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে কমিশনভিত্তিক টেস্ট ও অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখে পরে নির্দিষ্ট ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড আর চলতে দেওয়া হবে না। এসব কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের দালালদের মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার যে অপতৎপরতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, সেটিও স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অনেক সময় এমন অবাস্তব শর্ত দেওয়া হয়, যা অধিকাংশ ব্যবসায়ীর পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিজ্ঞতার মতো শর্ত আরোপ করা হয়, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায় এবং পছন্দের ঠিকাদার কাজ পেয়ে যায়।

স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। তবে যেখানে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই প্রস্তুত ছিল না। একটি মেশিন বর্তমানে ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল, যেগুলোর অনেকই এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত চার বছরে হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা হয়নি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো টিকাদান ক্যাম্পেইনও পরিচালিত হয়নি। ইউনিসেফের অনুরোধের পরও টিকা কেনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে এবং সম্প্রতি এক লাখের বেশি নতুন শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই টিকা না পাওয়া শিশু বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছিল। আগামী নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে, ফলে ডিসেম্বর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ এ সেবা পাবেন। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

দেশে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়লেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন। নারী রোগীদের কাছে নারী এবং পুরুষ রোগীদের কাছে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ দেওয়া যাবে না। কেউ অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীর পরিবারকে ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা বন্ধে সারা দেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার বা নবজাতকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd