রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। কোথাও পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকার গ্যাস। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাবতলীর এসপি ফিলিং স্টেশন, খালেক ফিলিং স্টেশন, আল-মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, সোহরাব সার্ভিস স্টেশন, মোহনা ফিলিং স্টেশন, শাহনাজ ফিলিং স্টেশন ও ডেইনসো ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ সারি।
গাবতলীর এসপি ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল খালেক বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। এই গ্যাস কতক্ষণ চলবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান তিনি।
একই চিত্র দেখা গেছে মিরপুর-১২, কালশী, মিরপুর-১০, সেনপাড়া, রামপুরা, হাতিরঝিল, মগবাজার, শাহবাগ, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে। অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি চালকরা।
শাহবাগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক আতিকুর রহমান বলেন, ভোর থেকে অপেক্ষা করেও কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত গ্যাস পাননি। এতে পুরো দিনের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে উত্তরার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক তুহিন বলেন, দিন দিন সংকট আরও বাড়ছে, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
শুধু যানবাহন নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাসাবাড়িতেও। মতিঝিল, ফকিরাপুল, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, জুরাইন, রায়েরবাগ, সেগুনবাগিচা, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, মিরপুর ও কালশীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছে।
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা তাজুল ইসলাম জানান, বাসায় গ্যাস না থাকায় পরিবারের জন্য রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এদিকে সেগুনবাগিচার বাসিন্দা শফিক বলেন, গ্যাসের অভাবে নিয়মিত রান্না করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে, যা সংসারের অতিরিক্ত খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।