হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ওমানের কাছে একটি নতুন অস্থায়ী প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, একমুখী নৌচলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের জলসীমা দিয়ে পরিচালিত হবে এবং বিপরীতমুখী রুটের একটি অংশও থাকবে ইরানি জলসীমার ভেতরে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
তিনি বলেন, নৌচলাচল পথ দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করার যে প্রস্তাব ওমান দিয়েছিল, তা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের মতে, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান করতে পারবে না।
গারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানান, ওমান যদি ইরানের নতুন প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথকে ইরান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।
তিনি আরও জানান, তেহরান ওমানকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছে যে, তারা আর আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) অনুসরণ করছে না। তার ভাষ্য, প্রণালির মাঝামাঝি থাকা এই নৌপথের বড় অংশ ওমানের জলসীমায় হওয়ায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এটি ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরানের দাবি, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরও নিবিড় নজরদারির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান রুট সেই নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) অনুমোদিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম বর্তমানে মাইনের ঝুঁকির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর পরিবর্তে আপাতত ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় রুট এবং ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহার করা হচ্ছে।
গারিবাবাদি বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ, কোনো ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়। গত ৬০ বছর ধরে টিএসএস ওমানের জলসীমায় থাকলেও আমরা কখনো আপত্তি জানাইনি।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ওমানের আমন্ত্রণ থাকলেও তেহরান কোনো তৃতীয় দেশকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের অনুমতি দেবে না।