ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দেশে-বিদেশে গড়ে তোলা অবৈধ সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎপরতায় বড় অগ্রগতি এসেছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ফাইলে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী এই মন্ত্রী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চেয়ে দুদকের মানি লন্ডারিং-২ শাখা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পারস্পরিক আইনগত সহায়তার (Mutual Legal Assistance) আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয় ওই আবেদন গ্রহণ করে। আবেদনে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্যই নয়, যুক্তরাজ্যে থাকা অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়েও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি এফবিআইয়ের তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সম্পদের রেকর্ড দুদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। একটি সিডিতে ধারণ করে এসব নথি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দুদক সূত্র জানিয়েছে, চাওয়া সব তথ্য এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। বাকি রেকর্ড ও তথ্য পর্যায়ক্রমে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়াটিও তদারক করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সরকারি কৌঁসুলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ। দুদকের হাতে আসা এসব নথি এখন চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তে যাচাই করে দেখা হবে। সম্পদের উৎস, প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের গতিপথ নির্ধারণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এফবিআইয়ের প্রতিবেদনটি ঠিক কবে দুদকের হাতে এসেছে, এতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে কিংবা মোট কত পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি দুদক। যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের কোনো সম্পদ ইতোমধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সাতটি দেশে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা।
এফবিআইয়ের তদন্তসংক্রান্ত নথি দুদকের হাতে আসায় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে থাকা সম্পদসংক্রান্ত অনুসন্ধান ও মামলার কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন দুদক-সংশ্লিষ্টরা।