বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়সহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের হাজিরা খাতা, বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি, ওষুধের স্টোর, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং রোগী ভর্তি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গেও কথা বলে স্বাস্থ্যসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শুধু সরকারের নয়, পুরো দেশের জন্যই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই স্বাস্থ্য খাতসহ সব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত থেকে শুরু করে চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এতদিন সরকার সংযম দেখিয়েছে, তবে এখন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়াতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থানীয় দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। বৈধ লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।