কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা গভীর সংকটে রয়েছে। দেশের টিআইএন হোল্ডারদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর রিটার্নই দাখিল করেন না, যা রাজস্ব আহরণে বড় বাধা তৈরি করছে।
সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, এনবিআর সংস্কার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
ড. খান জহিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে মোট টিআইএন হোল্ডার প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ হলেও এর মধ্যে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ কোনো আয়কর রিটার্নই জমা দেন না। পাশাপাশি আরও প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ রিটার্ন দাখিল করলেও কর পরিশোধ করেন না।
তিনি আরও বলেন, যারা কর দেন তাদের বড় অংশই ন্যূনতম আয়সীমার নিচে থাকায় কার্যত করযোগ্য নয়। ফলে বাস্তবে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষই করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে কর প্রদান করছেন, যা মোট টিআইএনধারীর মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ।
কর ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম নিম্ন। তুলনামূলকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং উন্নত দেশগুলোতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।
তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে ট্যাক্স বেইস সম্প্রসারণ করা জরুরি। তার মতে, করযোগ্য জনগোষ্ঠীর অংশ বর্তমানে ৪ শতাংশ থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআর সংস্কারের কথা উঠলেই অনেক সময় প্রতিরোধ তৈরি হয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে কর ফাঁকির জন্য নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।
কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হলে উৎসে কর কাটা এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।