• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থের রিট শেখ হাসিনার আমলে বিরোধীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না: রিজভী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য ট্রাম্পের দাবি, ‘চাঁদ আমাদের’; মহাকাশ থেকে নিউ মেক্সিকো—নাম বদলের হিড়িক মেসির গোলেও জয় পেল না মিয়ামি, ন্যাশভিলের সঙ্গে ২-২ ড্র আমিশা প্যাটেলের মায়ের বাড়িতে ৫ লাখ রুপির গয়না চুরি, গৃহকর্মী গ্রেফতার

রাজউকে ঘুষের সাম্রাজ্য: আল নাঈম মুরাদের জালে জিম্মি পুরান ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার / ৬৬৮ Time View
Update : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন–৭/১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ ইমারত নির্মাণে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর থানাধীন বিভিন্ন এলাকার ভবন মালিক ও ডেভেলপাররা দীর্ঘদিন ধরে তার অবৈধ অর্থবাণিজ্য ও হয়রানির কারণে কার্যত জিম্মি হয়ে আছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আল নাঈম মুরাদ আওয়ামী লীগের এক সাবেক এমপির মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে রাজউকে ইমারত পরিদর্শক পদে চাকরি বাগিয়ে নেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করেই নিয়োগ তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি নোটিশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিনব কৌশল রপ্ত করেন। নির্মাণাধীন ভবনে পরিদর্শনে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ত্রুটি বের করে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ চালুর বিনিময়ে তিনি সরাসরি কিংবা দালালের মাধ্যমে ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে প্রতি ভবন থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

যেসব ভবন মালিক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিরুদ্ধে ২সি নোটিশ, থানার পুলিশ ও মোবাইল কোর্ট ব্যবহার করে হয়রানি করা হয়। এমনকি বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে পরে পুনঃসংযোগের নামেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় রাজউকের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে চলছে ব্যাপক অনিয়ম—নকশা পরিবর্তন (ডেভিয়েশন), রাস্তার প্রশস্ততা লঙ্ঘন, ইনডোর-আউটডোর অবকাঠামো পরিবর্তন এবং আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ। কোথাও কোথাও আবার অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। নোটিশ জারি হলেও রহস্যজনক লেনদেনে তা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি উদাহরণ:
৩৩/১৩/এ, সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া— বৈধ প্ল্যান ছাড়াই বহুতল নির্মাণ, ৪০% খোলা জায়গার বিধান লঙ্ঘন, সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা নেটের অভাব।
৮৮/এ/২ ডিস্টিলারি রোড, গেন্ডারিয়া— মাত্র ৬ ফুট রাস্তায় ৮ তলা ভবন, কোনো অনুমোদিত প্ল্যান নেই।
৪৬ রজনী চৌধুরী রোড, গেন্ডারিয়া— সরু গলির ভেতরে অনুমোদনহীন নির্মাণ।
এছাড়া ৫০ এস,কে দাস রোড, ফরাসগঞ্জ, দ্বীন নাথ সেন রোড, মীরহাজীবাগ, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভবন মালিক জানান, নানা ত্রুটি দেখিয়ে এবং উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন আল নাঈম মুরাদ। আবার গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ গেন্ডারিয়ার ডিআইটি পুকুরপাড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করেও ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

ড্যাপ অনুযায়ী কৃষি জমিতে যেখানে বাড়ি করার অনুমতি নেই, সেখানেও প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ চলেছে বলে অভিযোগ। অনেক ভবনে বাধ্যতামূলক তথ্য বোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, যা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

অভিযোগ আরও আছে, আল নাঈম মুরাদের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তার সম্পদের কোনো মিল নেই। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াত, মধ্যপান, জুয়া ও নারী আসরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও জানা গেছে বলে দাবি সূত্রের।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আল নাঈম মুরাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের অভ্যন্তরে এ ধরনের দুর্নীতি শুধু রাজধানীর উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নগর উন্নয়ন আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট মহল এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd