দেশে পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন মূল্যহার প্রকাশ করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেশি। অন্যদিকে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে, ফলে ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। এর আগে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন জানায়। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। পর্যালোচনা শেষে কমিশন নতুন মূল্যহার অনুমোদন করে, যা বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে কার্যকর করা হচ্ছে।