পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় থেকে ব্লকবাস্টার মালয়ালম সিনেমা ‘প্রেমালু’র রিণু চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়েছেন দক্ষিণ ভারতের তরুণ অভিনেত্রী মামিতা বাইজু। ২০২৪ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই তার ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ইতোমধ্যে থালাপতি বিজয় ও সুরিয়ার মতো দক্ষিণী তারকাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অভিনেত্রীর নতুন সিনেমা ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করছে। এর মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মামিতা।
শরীর ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় ওনাম উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা থাকলেও চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশে আপাতত পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে তাকে।
‘লেন্ড্যাক্সিস ক্লাইড ওনাম ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মামিতা বাইজুর। তবে অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারছেন না তিনি।
এক বার্তায় অভিনেত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, নির্ধারিত তারিখে আমি উপস্থিত থাকতে পারছি না। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কোনোভাবেই আসার উপায় থাকলে আমি ঠিক আসতাম, তবে চিকিৎসকরা আমাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।’
অভিনেত্রীর অসুস্থতার খবরের মধ্যে তার আয়, সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।
চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের সিনেমা ‘জন নায়গন’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন মামিতা। এর আগে ‘প্রেমালু’, ‘বিদ্রোহী’, ‘অপারেশন জাভা’ ও ‘বারথান’-এর মতো সিনেমাতেও অভিনয় করে নজর কেড়েছেন তিনি।
২০১৬ সালে পৃথ্বীরাজ অভিনীত ‘পাভাদা’ সিনেমার মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে অভিষেক হয় মামিতার। বর্তমানে ২৫ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী প্রতিটি সিনেমার জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। মূলত মালয়ালম, তেলেগু ও তামিল সিনেমাতেই তার কাজের পরিধি বেশি।
‘প্রেমালু’ সিনেমার সাফল্যের পর মামিতা বাইজুর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন, স্কিন কেয়ার ও বিভিন্ন জুয়েলারি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও বড় অঙ্কের আয় করেন তিনি। বিভিন্ন খাতে তার করা বিনিয়োগও আয়ের উৎসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কোচির একটি অভিজাত এলাকায় মামিতা বাইজুর ৩ থেকে ৫ কোটি রুপি মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। কাজের ব্যস্ততার বাইরে সেখানে সময় কাটান তিনি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে অ্যাপার্টমেন্টটিতে।
এ ছাড়া কেরালার কোট্টায়ামের কিডঙ্গুরে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িটিরও যত্ন নেন অভিনেত্রী। শৈশবের অনেকটা সময় এই বাড়িতেই কেটেছে তার। সুযোগ পেলেই সেখানে ছুটে যান তিনি।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মামিতার গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে একটি ভক্সওয়াগান তাইগুন ও একটি মারুতি সুজুকি জিমনি।
‘জন নায়গন’-এর পর ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ সিনেমাটিও অভিনেত্রী হিসেবে মামিতা বাইজুকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।