চিত্রনায়িকা পরীমনি আবারও ব্যক্তিগত জীবন, চলমান আইনি লড়াই এবং তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি তার বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হলেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি গ্রেফতারের অভিজ্ঞতা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর শুটিং ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরীমনি বলেন, দীর্ঘদিন তিনি নীরব ছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল—সত্য একসময় না একসময় প্রকাশ হবেই।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তিনি যদি নিজের ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি তোলেন, তবুও নানা ধরনের কটূক্তির শিকার হতে হয়। মানুষের একটি বড় অংশ তাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না; বরং সন্তানদের সঙ্গে একাই দেখতে চায়। কেন এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেন না বলে জানান।
নিজের গ্রেফতারের প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এতদিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তার মতে, কোনো সত্য দীর্ঘদিন চাপা থাকে না। যেমন কোনো অপরাধ নিখুঁত হয় না, তেমনি সত্যও একসময় প্রকাশ হয়ে আসে।
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে গ্রেফতারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, সে সময় গ্রেফতারের কোনো পরোয়ানা ছিল না এবং বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুমতিও সংশ্লিষ্টদের কাছে ছিল না।
পরীমনি বলেন, পরবর্তী সময়ে পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক জানার পর তার মনে হয়েছে, বিষয়টি অনেকটাই পরিকল্পিত ছিল। তবে সবকিছু মোকাবিলায় ধৈর্যই তাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, গত ছয় বছরে ধৈর্য ধরে থাকার কারণেই তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন এবং মনে হচ্ছে জীবনের বড় একটি চাপ তার কাঁধ থেকে নেমে গেছে।
মামলার বিষয়ে পরীমনি জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত মামলা নয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষকে বিরক্ত করা, ব্ল্যাকমেইল করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তিনি কখনো রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেননি। বরং শুরু থেকেই আইনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। যতদিন আদালতের প্রক্রিয়া চলবে, ততদিন তিনি হাজিরা দেবেন। তার বিশ্বাস, একদিন আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে তার সম্মান ফিরিয়ে দেবে।
শিল্পীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, শুধু শিল্পীদের নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, পেশা যাই হোক না কেন, সবাই যেন হয়রানি ও অনিরাপত্তামুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।