আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে, যা আগামী দুই অর্থবছরে কার্যকর থাকবে।
মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর করের বোঝা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করহার ও কর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে করহার ও সম্পদ করের ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। অতি ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে। সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া উচ্চ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে মধ্যবিত্তদের ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রে কর অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ থাকলে ধাপে ধাপে সম্পদ কর দিতে হবে, যা সর্বোচ্চ দুই শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি করদাতার মোট করের চেয়ে বেশি হবে না।
অন্যদিকে কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে নতুন কাঠামো ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। অপ্রদর্শিত সম্পদ নির্ধারিত কর দিয়ে রিটার্নে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হতে পারে, তবে বিশেষ ছাড় না দিয়ে সাধারণ করহারেই তা করযোগ্য করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেট কাঠামো একদিকে যেমন মধ্যবিত্তের কিছুটা স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের চাপ বাড়াবে।