দেশের আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন। বুধবার তিনি ওই মামলায় জামিন লাভ করেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন হিরো আলম।
জামিন পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করার কথাও জানান তিনি।
হিরো আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে তিনি পুরো ঘটনাটি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে এক ধর্মীয় ব্যক্তিকে দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা বলা হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করেন। এক সময় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে বগুড়ায় নিয়ে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে বগুড়া শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার গর্ভপাত ঘটে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বগুড়া যাওয়ার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেছিল বগুড়া সদর থানা পুলিশ।