জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস (এমডব্লিউইআর)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ শরীফ (কৌশিক) ও অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেওয়া ‘জাতীয় স্বপ্নবাজেট’ প্রস্তাবের অনেক দিক নতুন বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
তাদের মতে, বাজেটে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যে উৎস কর কমানো এবং মোবাইল সিমের ট্যাক্স প্রত্যাহার ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই মূল চ্যালেঞ্জ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ (১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা) প্রশংসনীয় হলেও সুশাসন, স্বচ্ছতা ও অপচয় রোধ নিশ্চিত না হলে এর সুফল পাওয়া কঠিন হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে বিচার বিভাগের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ০.২৩ শতাংশ বরাদ্দকে সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত ভবন নির্মাণ, ডিজিটাল কোর্ট সম্প্রসারণ, বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তারা।
তাদের মতে, উন্নয়ন খাতে বিচার বিভাগের বরাদ্দ কমে যাওয়ায় মামলা জট কমানো ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ জরুরি।