দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেন—মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেস—আবারও চালু হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে ট্রেন তিনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের কর্মকর্তারা। আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে থাকবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে।’
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী অক্টোবর থেকেই ট্রেন তিনটি চালু করা সম্ভব হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথ চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসকে যমুনা সেতুর পরিবর্তে সদ্য নির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে আগামী মাস থেকেই তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালু হতে পারে। তবে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আন্দোলনের পর মৈত্রী এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর মিতালী এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সর্বশেষ ঢাকায় এসেছিল। এরপর ট্রেনটি আর ভারতে ফিরে যায়নি।
মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা-কলকাতা, বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলাচল করত। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার ট্রেন তিনটির চলাচলও পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।