১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে এতদিন দেওয়া বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এসব সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিবের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস কোড ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাভুক্ত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়ে এসব পণ্য আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়ার সুযোগ সহজ করতেই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের টেক্সটাইল শিল্পে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব সুতা আমদানিতে আমদানিকারকদের একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) অথবা বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি আমদানির সময় প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ জন্য কার্যকর ব্যাংক গ্যারান্টিও দাখিল করতে হবে।
আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য পুরোপুরি রপ্তানি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ওই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা যাবে।
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে আদেশ জারির আগে আমদানি করা পণ্য কিংবা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যুক্তিতে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা বাতিল করেছিল সরকার।
তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তা পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।