• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০ ৪৭ বছর বয়সে ইমরান তাহিরের রেকর্ড, ১৭ রানে নিলেন ৫ উইকেট ইবাদত ও পারিবারিক আয়োজনে পপির জন্মদিন, বাবাকে মনে করে আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদন ৬ অক্টোবর পর্যন্ত

পুলিশের ১ শতাংশও দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, অপরাধে জড়িত মাত্র শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ: আইজিপি

নিউজ ডেস্ক / ২৭ Time View
Update : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশ বাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় পুরো বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িত পুলিশের সদস্যের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। তাই অল্পসংখ্যক দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যের জন্য গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়।

আইজিপি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান।’

পুলিশ বাহিনীতেও খারাপ লোক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে।’

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে নিজেদের জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্র না করে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।’

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, অভিভাবক এবং মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের পর নতুন প্রজন্মের একটি অংশ ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে জড়াচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশ অকার্যকর হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনলেও পরে তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে আইজিপি বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তাদের স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মাদককে তিনি মরণফাঁদ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তিকেও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।’ একই সঙ্গে দেশের নাগরিক হিসেবে আইন মেনে চলা এবং অন্যদেরও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২৭২ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে শনিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd