• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০ ৪৭ বছর বয়সে ইমরান তাহিরের রেকর্ড, ১৭ রানে নিলেন ৫ উইকেট ইবাদত ও পারিবারিক আয়োজনে পপির জন্মদিন, বাবাকে মনে করে আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদন ৬ অক্টোবর পর্যন্ত

বিশ্ববাজারে চামড়া শিল্পের হারানো অবস্থান ফেরাতে সরকারের বড় সংস্কার পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘Advancing Bangladesh’s Leather Sector: Challenges, Opportunities and Reform’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করার পর বর্তমানে যারা নতুন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য চামড়া খাতে জায়গা তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (LWG) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগসহ উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য তৈরি ও রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ‘বাংলাদেশ লেদার’ নামে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলা।

চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন বিশ্বমানের CETP নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান CETP সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে।

বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় CETP ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

এ ছাড়া ট্যানারির কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন এবং বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে। আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সা (FLAXA)-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।


More News Of This Category
bdit.com.bd