অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি খাত। এই খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে অনলাইন ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা ও এমএলএম কোম্পানিগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।
ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতারণার বিষয় সংসদে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে।
এসব অভিযোগের বিপরীতে ভোক্তাদের আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ও কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এবং অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধনের দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অর্থের মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।