• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০ ৪৭ বছর বয়সে ইমরান তাহিরের রেকর্ড, ১৭ রানে নিলেন ৫ উইকেট ইবাদত ও পারিবারিক আয়োজনে পপির জন্মদিন, বাবাকে মনে করে আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদন ৬ অক্টোবর পর্যন্ত

এলএনজি আমদানিতে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত, তীব্র হচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট

নিউজ ডেস্ক / ১৫ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

এলএনজি আমদানিতে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, সময়মতো কার্গো না আসা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা একাধিক এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ে দেশে না পৌঁছানোয় এক মাসের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারছে না অনেক শিল্পকারখানা। সামনে আরও কয়েকটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেগুলোর সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে চলমান সংকটের পেছনে মূলত সময়মতো আমদানি পরিকল্পনা না করা, নির্ধারিত কার্গো সরবরাহে জটিলতা এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলো কাজ করছে।

ডিপিএমে ব্ল্যাক কিউব কোম্পানির কাছ থেকে কেনা একটি এলএনজি কার্গো আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) জমা দেয়নি। কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগও হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কার্গোটি না এলে চলতি সপ্তাহজুড়েও গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘এমভি ইসটিম ফুজি’ নামের ওই কার্গো বর্তমানে লোহিতসাগর হয়ে জিব্রাল্টারের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে কার্গোটি পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগের বা পরের কোনো কার্গোর সরবরাহ এগিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এর আগে ডিপিএমে জেন হু শিপিংয়ের ‘কুংপেং’ নামের একটি কার্গো ২৬ আগস্ট দেশে আসার কথা ছিল। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, কার্গোটিতে রাশিয়ার এলএনজি রয়েছে এবং সেটি পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। ফলে কার্গোটিও দেশে আসেনি। ঘাটতি পূরণে তাৎক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেট থেকে বিকল্প এলএনজি কেনা সম্ভব না হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

ডিপিএমে নির্ধারিত কার্গোর সরবরাহ নিয়ে জটিলতা

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭, ২৩, ২৬ ও ২৯ আগস্ট এবং ৬ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডিপিএম পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এসব কার্গোর একটিও নির্ধারিত সময়ে দেশে আসেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ আগস্টের কার্গোর ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং করতে হয়েছে।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০৫ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ৭২ কোটি ঘনফুটে। এতে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ডিপিএমে মেক্সওয়েলের একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। তবে সেটিও অনিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছে একটি কার্গো সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

সময়মতো পরিকল্পনা না থাকায় বাড়ছে এলএনজির দাম

এলএনজি আমদানিতে সময়মতো পরিকল্পনা ও শিডিউল নিশ্চিত না করায় এখন বেশি দামেও কার্গো কিনতে হচ্ছে সরকারকে। ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকো ট্রেডিংয়ের একটি কার্গো প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার এবং পসকোর একটি কার্গো ২৪ দশমিক ৬২ ডলারে কেনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তত এক মাস আগে স্পট বা চুক্তিভিত্তিক কার্গোর শিডিউল নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি কার্গোতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। বর্তমানে একটি এলএনজি কার্গো কিনতে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে একই ধরনের একটি কার্গো কিনতে ব্যয় হতো প্রায় ৪ কোটি ডলার।

এদিকে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পুনরায় চালু করা হলেও কার্গো সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতিও

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতিও বেড়েছে। নেপালে আকস্মিক বন্যায় চিলিমে ও ত্রিশূল বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।

সারা দেশে এখনো লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও জ্বালানি কেনা ও বকেয়া পরিশোধের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।

বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সরকারের কাছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৪৭ মেগাওয়াট। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট।

সব মিলিয়ে এলএনজি আমদানিতে পরিকল্পনার ঘাটতি, সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়া এবং জ্বালানি খাতে সমন্বয়হীনতার কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।


More News Of This Category
bdit.com.bd