সন্ত্রাস দমনে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সারা দেশে অবৈধ ও লুণ্ঠিত হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ধরার জন্যও আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব।’
তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কৌশলগত কারণে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কৌশল প্রণয়ন করেছি। যেটা এখানে আমার বলা ঠিক হবে না।’
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) অংশ নেন। তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নিজেদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।