• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
‘ধুম ফোর’ নিয়ে মুখ খুললেন রণবীর কাপুর, গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেতা সীমান্ত ব্যাংকে ‘কল সেন্টার সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগ, আবেদন ৪ আগস্ট পর্যন্ত চিতলমারী থানা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটিকে দুর্নীতি সমাচার পরিবারের অভিনন্দন শ্যোন অ্যারেস্টে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, চার সপ্তাহে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকরা মিরপুরে দেওয়ালধসে আহতদের দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসার সব ব্যয় বহনের আশ্বাস অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভয়াবহ সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক / ২৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখনো বড় কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ২০২৮ সালের মধ্যে শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দৈনিক অতিরিক্ত ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলে গাজীপুর, আশুলিয়া, চন্দ্রা, টাঙ্গাইল, কোনাবাড়ি, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে কয়েকশ শিল্পকারখানায়। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গ্রাহকদেরও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি রয়েছে ১০৩ কোটি ২৩ লাখ ঘনফুট। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু তিতাস গ্যাসের আওতায় শিল্প ও ক্যাপটিভ সংযোগ রয়েছে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি। এরই মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ প্রতিনিয়ত কমছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শিল্পকারখানাসহ সব ধরনের গ্রাহককে আরও বড় সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৯ সালের মধ্যে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে পাঁচ মাস পার হলেও এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার চাপও বাড়ছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দেওয়ার পরও প্রায় ৫৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন ঝুলে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দিতে অতিরিক্ত ৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস প্রয়োজন হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, দেশের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড় কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অথচ চাহিদা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ২৬৫ কোটি ঘনফুট হলেও আগামী বছরের জুনে তা কমে ২৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। ২০২৮ সালে সরবরাহ আরও কমে ২৫৭ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাবে। অথচ ওই সময়ে দেশের গ্যাসের চাহিদা ৫০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৮ সালের শেষে দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন নেমে আসতে পারে মাত্র ৮৫ কোটি ঘনফুটে, যেখানে বর্তমানে উৎপাদন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলাসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস বরিশাল হয়ে জাতীয় গ্রিডে আনার জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

পেট্রোবাংলা আরও জানিয়েছে, নতুন কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও গত চার বছরে ২০টির বেশি কূপ খনন করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা থেকে কয়েক বছর আগে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও এখন তা কমে প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে। একইভাবে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, মৌলভীবাজার, বাংগুরা ও সিলেটসহ প্রায় সব গ্যাসক্ষেত্রেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সরকার সমুদ্রে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলেও দরপত্র জমা, মূল্যায়ন, চুক্তি এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে স্বল্পমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


More News Of This Category
bdit.com.bd