২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী হবেন।
এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারেরও এটি প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের জন্য মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০১ শতাংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সরকার স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
বাজেটে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
ঔষধ শিল্পের বিকাশে এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) শিল্প পার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও দেশের ওষুধ শিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে।
এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলা হয়, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হয়েছে।