সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সরকার গঠনের পর দলটির নেত্রীদের নজর এখন এসব আসনের দিকে। ঈদের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিযোগিতা।
দলের নেত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা দলের কাছ থেকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, কেবল পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, মাঠপর্যায়ের অবদানও মনোনয়ন নির্ধারণে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। পরিবারতন্ত্রের বাইরে থেকে উঠে আসা নেত্রীদের সংগ্রাম ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের মধ্যে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এগুলো হলো দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমেই নেওয়া হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি এবার প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, দলে অনেক যোগ্য নেত্রী রয়েছেন এবং তারা মনোনয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই দলের চেয়ারম্যান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানের মধ্যেও গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন তারা। কেউ কেউ সুপারিশের আশায় বিভিন্ন দপ্তরেও সময় দিচ্ছেন। এতে কেউ আশাবাদী হচ্ছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে অন্যত্র যোগাযোগ করছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। নীতিনির্ধারকরাও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় এখনো নির্বাচন-পরবর্তী পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কারা মনোনয়ন পাবেন বা কোন মানদণ্ডে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিবারের কাউকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—সেটিও স্পষ্ট নয়।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটি প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসন পাওয়ায় তাদেরও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।