সময়কে রিওয়াইন্ড করলে ফিরে যেতে হয় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে। আজকের এই দিনেই, ১০ জানুয়ারি, টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়টি লিখেছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ২২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল **জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল**কে।
এই জয় ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার চার বছর পর এবং ৩৫তম ম্যাচে এসে লাল বলের ক্রিকেটে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে টাইগাররা। ক্রিকেট ইতিহাসে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য।
ঐতিহাসিক এই জয়ের নায়ক ছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৫ রানে ছয় উইকেট শিকার করে তিনি জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দেন ১৫৪ রানে। তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন এনামুল।
ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তৎকালীন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। প্রথম ইনিংসে তার ৯৪ রানের ইনিংস এবং মোহাম্মদ রফিক–এর ৬৯ রান ও পাঁচ উইকেটের সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসেই ১৭৬ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও হাবিবুল বাশার করেন গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরি (৫৫ রান)।
এরপর এনামুল হক জুনিয়রের ঘূর্ণি জাদুতে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। সেই জয় আজও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয় আসে আরও চার বছর পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। তবে ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারির সেই জয়ই ছিল সব কিছুর সূচনা—যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগে নাড়া দেয়।