বাংলাদেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার লালনে বিকশিত গণতন্ত্রকে সঙ্গে করেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন মানেই দেশে গণতন্ত্রের নতুন করে ফিরে আসা।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দেশের মানুষ আজ মুখিয়ে আছে। জনগণ তাকে স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এটি শুধু একজন নেতার ফেরা নয়, বরং গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসে না, দেশের মঙ্গল চায় না—তারা মানুষরূপী শয়তান। ইতিহাসে তারা সব সময় দেশবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। কখনো চুপ থাকলেও আবার সুযোগ পেলে নখ ও বিষদাঁত বের করে দেয়। তাদের কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে দেশকে অস্থির করার দিকেই যায়।
অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সামনে কোনো স্বৈরশক্তি টিকতে পারে না। যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের সাবধান হয়ে যেতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের জাতির শত্রু আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এদের চিহ্নিত করে থামাতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস ও মব সহিংসতার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উল্টো বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, বিএনপিই এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অথচ আজ সেই গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করেই কেউ কেউ জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। সরকারকে অবিলম্বে মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএনপি গণতন্ত্রের রক্ষক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা হত্যা, গুম কিংবা মবের রাজনীতি করি না। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা চুপ করে বসে থাকব। মানুষ রক্ত দিয়ে যে অধিকার অর্জন করেছে, তা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১০ আসনের মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-৬ আসনের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনের হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা-৯ আসনের হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবীসহ মহানগর দক্ষিণ বিএনপির একাধিক নেতা।
সভায় বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন গতি আনবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।