রাজউকের অঞ্চল-১-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, বিদেশ ভ্রমণে বিধি লঙ্ঘন, পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরির শুরুতে ছুটি ও সরকারি আদেশ ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ এবং নিজের বোনকে রাজউকের নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত না করেই তাঁকে পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
অঞ্চল-১-এর দায়িত্ব পাওয়ার পর সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আরও বেড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরিসংক্রান্ত হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
সুলতানা রাজিয়ার পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজউকে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে অনুমোদিত ১১টি পদের মধ্যে আটটি পূরণ রয়েছে। অন্যদিকে, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) পদে অনুমোদিত ১২টি পদ শূন্য থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল-১-এর পরিচালকের চলতি দায়িত্ব তাঁকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামানের হাতে তিনি ধরা পড়েছিলেন।
রাজউকের অঞ্চল-১ কার্যালয়ে ভবনের নকশা অনুমোদন ও প্রাথমিক ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক। তাঁদের দাবি, নকশা অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিশেষ সুবিধা নিয়ে অনিয়ম উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। সেন্ট্রাল প্লাজার মালিক আলমগীরের সঙ্গে রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে অন্য দুটি ভবনে নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগও করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
এ ছাড়া সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরা-পূর্বাচল এলাকায় পাঁচ কাঠার একটি প্লট পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য পাঁচ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চাকরিতে যোগদানের পর বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর স্বজনেরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আরও দাবি করা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৫ আগস্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতেন সুলতানা রাজিয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হতো। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অর্থ সংগ্রহ নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা মনে করেন, রাজউকের অঞ্চল-১-এ ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ তদারকি ও ভূমিসংক্রান্ত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ঠেকানো সম্ভব হবে।