প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার মানোন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আধুনিক শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক এগিয়ে। তাই তাদের যথাযথভাবে পাঠদান করতে শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আট দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা যে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সাহস পায় না, তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই একজন আদর্শ শিক্ষকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সব শিক্ষককে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ প্রশিক্ষণ কোর্সে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬১৩ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। তবে পুনঃপরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষাধারায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরে শিক্ষামন্ত্রী বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলার ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে ‘খান একাডেমি, বাংলাদেশ’-এর শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।