• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা: নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে ৬ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠন এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, ফি ১৫০ টাকা পোশাক শ্রমিকদের দাবি ঘিরে রোববার গঠন হচ্ছে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার: বাবার হত্যা মামলা, বন্ধুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন এইচএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাকিস্তানের কোচ হতে চান মুশতাক, তবে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত

নিউজ ডেস্ক / ৮৭ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাকিস্তানের লেগস্পিনের কিংবদন্তি মুশতাক আহমেদ বর্তমানে বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ দেশের কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রবল হলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে সেই দায়িত্ব নিতে কিছুটা শঙ্কিত তিনি। বিশেষ করে কোচদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই তাকে বেশি ভাবিয়ে তুলছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজে পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিরিজের মাঝপথে স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রথম দুই টেস্ট হেরে সিরিজও ইতোমধ্যে হাতছাড়া করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই বার্মিংহ্যামে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারকে একসঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে পিসিবি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির ‘স্টাম্পড’ পডকাস্টে পাকিস্তানের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মুশতাক আহমেদকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে বাংলাদেশের এই স্পিন কোচ বলেন, ‘আমি অবশ্যই নিজের দেশকে (কোচিং) করাতে ভালোবাসব। বিশেষ করে এই মুহূর্তে। আমি কেবল একটি জিনিসই চাই। মাঝেমধ্যে আপনি নিজ দেশের হয়ে কাজ করতে আতঙ্কে থাকবেন, যখন মানুষ আপনাকে সম্মান করবে না এবং কিছু আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তে দায়িত্ব থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। যখন একটি সফরের মাঝে আপনি কাউকে বরখাস্ত হতে দেখেন, তখন উদ্বেগ এবং আতঙ্ক থাকবেই।’

পাকিস্তান ক্রিকেটের এই অস্থিরতা দূর করা গেলে দেশের হয়ে কাজ করতে সাবেক ও বর্তমান কোচদের আগ্রহ বাড়বে বলেও মনে করেন মুশতাক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়গুলোর সুরাহা করা গেলে, শুধু আমি নই, কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারই দেশের সেবা করতে চাইবেন। এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করার এবং খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনার জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং এমন একটি দল গঠন করা যা প্রতিপক্ষকে সত্যিকার অর্থে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে, এটাই আমার লক্ষ্য।’

সিরিজ চলাকালে সাত ক্রিকেটার এবং টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেও হতাশ মুশতাক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাত ক্রিকেটার ও ম্যানেজমেন্ট পালটে ফেলা, বিশেষ করে সফরের মাঝপথে সরিয়ে দেওয়া সঠিক কাজ নয়। পাকিস্তান ক্রিকেটে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি। অবশ্য পাকিস্তানি হিসেবে এবং সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমি ব্যথিত। সরফরাজ ও উমর গুল সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম। দেশকে ভালো সেবা দিয়েছে। সরফরাজ অধিনায়কও ছিল। যদি তাদের বরখাস্ত করতেই হতো, সফরের পর করতে পারতেন। এখন শান্ত থাকার সময়, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’

পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন পরিস্থিতি এড়াতে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শও দিয়েছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী মুশতাক আহমেদ।

তার ভাষায়, ‘অতীতে খারাপ সময়ে যেসব ক্রিকেটার ও অধিনায়ক পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আলোচনার টেবিলে ডেকে মতামত নিতে পারেন। কারণ আপনি সঠিক মানুষদের উপযুক্ত কাজে না ডাকলে এমন (অস্থির) পরিস্থিতি তৈরি হবে। পেশাদার কাজের জন্য আপনার বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার মানুষ প্রয়োজন।’

মুশতাকের বক্তব্যে একদিকে যেমন পাকিস্তানের কোচ হওয়ার আগ্রহের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে পিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন ও কোচদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও তার উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই দলটিকে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফেরানো সম্ভব।


More News Of This Category
bdit.com.bd