যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। এরই মধ্যে চলতি মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
শুক্রবার এক দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর লেনদেনের একপর্যায়ে স্বর্ণের দাম আরও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি সপ্তাহে এটিই স্বর্ণের বাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটিতে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বেকারত্বের হারও কমে স্থিতিশীল রয়েছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির এই শক্তিশালী চিত্র ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদনির্ভর সম্পদ ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমে যেতে পারে এবং এর দামেও চাপ তৈরি হয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে। একই সঙ্গে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য ও সেবার দাম কতটা বেড়েছে বা কমেছে, সেই সংক্রান্ত মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই তথ্য প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।