• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি

নিউজ ডেস্ক / ৫৭ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে নির্ভরতা ছিল, তার পাশাপাশি এখন আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিকল্প কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।

রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন মনে করেন, মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংশয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে তার মতে, চুক্তিটির উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়; বরং মার্কিন সহযোগিতার পাশাপাশি অতিরিক্ত কৌশলগত বিকল্প তৈরি করা।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তোসিও চুক্তিটিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পুনর্বিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সৌদি আরব এখন ওয়াশিংটনের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।

সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, মক্কা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প কোনো একক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চুক্তিভুক্ত তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার এবং দেশগুলোও স্বীকার করে যে মার্কিন নিরাপত্তা সক্ষমতার সমতুল্য কোনো বিকল্প বর্তমানে নেই।

এদিকে চুক্তিটিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ফলে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক জোটের সূচনা কি না, তা এখনই নিশ্চিত না হলেও সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


More News Of This Category
bdit.com.bd