বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়াকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। চাহিদা হ্রাসের এই পরিমাণের প্রায় এক-চতুর্থাংশই ডিজেল খাত থেকে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন, বাজারে অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ডিজেলের বাড়তি দাম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সংকট সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে তেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে তেল পরিবহনও কিছুটা পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে হামলার আশঙ্কা সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) এবং শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ জরুরি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে ২০২৭ সালের আগে বিশ্বজুড়ে ডিজেলসংকট ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।