• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হ্যালো ডিসি’তে আবেদন করে সেলাই মেশিন পেলেন দোহারের ১৪ অসহায় নারী বেনজীরের দুবাইয়ে মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই, যা করণীয় দুদক করবে: মহাপরিচালক দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু, ৬৪ জেলায় ১,৬০০ তরুণ-তরুণী পাবেন দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ প্রবাসীদের ঝুলে থাকা পাসপোর্ট আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের ‘জুলাইয়ের অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি, জাতীয় অনৈক্যের দায় বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের’ কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিল সরকার, ২-৫ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪৩১, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও ১৪ হাজার ইয়াবা বিনামূল্যে ১৪ দিনের পর্যটন ভিসা চালু করল ওমান দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হার, মাত্র ৮৯ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৩১তম বিবাহবার্ষিকীতে মৌসুমীকে আবেগঘন বার্তা দিলেন ওমর সানী

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালু করতে আগ্রহী মিয়ানমার

নিউজ ডেস্ক / ৩ Time View
Update : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

প্রায় সোয়া এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বা অস্থায়ী ভিত্তিতে বাণিজ্য শুরু করার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে এ আগ্রহের কথা জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম ধাপে সীমিত আকারে বাণিজ্য শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে এলেও স্বাভাবিক বাণিজ্য আর শুরু হয়নি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে রাখাইন থেকে কাঠ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ এবং যোগাযোগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd