• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নিউজ ডেস্ক / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা সমানভাবে সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেট নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সংযুক্তি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এজন্য তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; বরং বিনিয়োগবান্ধব সরকারি নীতিমালা ও কার্যকর প্রশাসনিক সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রয়েছে দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বেসরকারি খাতনির্ভর এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচনি ইশতেহারেও সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের গত পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ভিত্তিতে বিনিয়োগের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা জোরদার, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা সহজে প্রত্যাবাসনের সুযোগ, পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নয়, বরং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।


More News Of This Category
bdit.com.bd