ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিক্ষোভে সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রতিক্রিয়ায় অখিলেশ যাদব বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো সরকার জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ করবে—এটি কল্পনাও করা যায় না। তার অভিযোগ, হিটলার যেমন ব্যক্তিগত বাহিনী ব্যবহার করতেন, তেমনি দিল্লির বিক্ষোভেও সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের আন্দোলনকারীদের মারধর করতে দেখা গেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকার নিজেদের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করাতে পারছে না। কারণ, পদত্যাগে বাধ্য করা হলে তারা সরকারের বিভিন্ন গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারেন বলে সরকারের আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটিকে অন্যতম বড় সড়ক বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে মোট ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য, যাদের মধ্যে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সহিংস ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তবে আন্দোলনের আয়োজকরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, শত শত শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা। ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার বৈঠক হলেও সরকার এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) নতুন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।