ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই জানাজায় শোকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের আহ্বানও উঠে আসে।
রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া মানুষের অনেকেই খামেনির মৃত্যুকে ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানান এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ৪০ বছর বয়সী আরশ রাহিমি বলেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। তার দাবি, জানাজায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই খামেনির হত্যার বিচার চান। তিনি আরও বলেন, খামেনি সবসময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং সেই অবস্থানই জনগণের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরানের হামাদান প্রদেশ থেকে তেহরানে আসা হামিদ তেইমোরি জানান, খামেনির মৃত্যুর সংবাদ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তার ভাষায়, নিজের বাবার মৃত্যুতেও তিনি এতটা শোকাহত হননি, যতটা হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবরে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির জানাজাকে সরকার জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনগণের আবেগকে পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন।