দেশের ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছে।
রোববার রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার, জনগণের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডিসিদের সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পদোন্নতি বা বদলিতে এসবই বিবেচনায় নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে পেশাদারিত্ব বিসর্জন দিলে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যেকোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে জনসেবার মান বাড়বে এবং জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর করে ফেলেছিল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত দুর্বল অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।