মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করে একটি শান্ত, ইতিবাচক ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায় সরকার। সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করতে কাজ করছে। তিনি জানান, এবারকার এসএসসি ব্যাচটি করোনার কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তাই এটিই তাদের জীবনের প্রথম পূর্ণ সিলেবাসের বড় পাবলিক পরীক্ষা।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র যেন কোনোভাবেই আতঙ্কের জায়গা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহনশীলভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, পানি, ফ্যান এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল অপরাধ ও দায়িত্বে অবহেলাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, যানজট এড়াতে কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকে খোলা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে।
খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করা হয়েছে এবং মান যাচাইয়ের জন্য র্যান্ডম পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া কোচিং নির্ভরতা কমাতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের জন্য শুভকামনা জানান শিক্ষামন্ত্রী।