প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক বা অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে সংকট আরও বাড়তে পারে। বুধবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাজারে কিছু ক্ষেত্রে একই যানবাহন বারবার তেল নেওয়ার মতো ঘটনা দেখা যাচ্ছে এবং এ ধরনের আচরণই ‘প্যানিক বায়িং’-কে উসকে দেয়। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি জটিল হলে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এপ্রিল মাসে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে, যা নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নয় বরং পরিস্থিতিনির্ভর।
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি টিকাদান কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তবে এর সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি দেখা যাবে না।
তিনি বলেন, অতীতে টিকা কাভারেজে ঘাটতির কারণে কিছু শিশু সুরক্ষার বাইরে ছিল, যার ফল এখন দেখা যাচ্ছে। এটি পূর্বের দুর্বলতার ফল হলেও এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে রোগীদের সেবা দিতে, তবে সীমিত সম্পদের কারণে একসঙ্গে বেশি রোগীর ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে আইসিইউ সেবায়।
ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেবা উন্নত করতে কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অনেক রোগ আগেই প্রতিরোধ করা যায়। টিকাদানও সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।