ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রীদের মানসিক চাপ ছেলেদের তুলনায় কিছুটা বেশি—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি রিসার্চ-এ।
মোহালির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণার শিরোনাম ছিল—
‘নির্বাচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারসংক্রান্ত মানসিক চাপের তুলনামূলক মূল্যায়ন’।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন পাঞ্জাবের গবেষক দীপিকা আর কুমার, আম্বিকা এফ ক্রিস্টোফার, আশীষ ডেভিড, অভ্যা রানা, দামিনী শর্মা, গুরকমল প্রীত কৌর ও জিনাত আমিন।
তুলনামূলক পরিমাণগত পদ্ধতিতে সুবিধাজনক নমুনা নির্বাচন করে ১০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে মানসিক চাপ পরিমাপের জন্য একটি স্ব-প্রস্তুত রেটিং স্কেল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে বর্ণনামূলক ও অনুমানমূলক পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের গড় মানসিক চাপের স্কোর ছিল ৫৯.১০ শতাংশ, আর ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা ৫৭.১৩ শতাংশ। অর্থাৎ মেয়েদের মধ্যে চাপের মাত্রা কিছুটা বেশি হলেও এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আনপেয়ার্ড টি-টেস্টে পাওয়া মান ছিল ১.২৬২ এবং পি-ভ্যালু ০.২১০, যা নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি—ফলে পার্থক্যটি কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
গবেষকরা জানান, এই ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা তুলে ধরে—উভয় লিঙ্গের স্নাতক শিক্ষার্থীর মধ্যেই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে উল্লেখযোগ্য মানসিক চাপ রয়েছে, যেখানে ছাত্রীদের চাপ সামান্য বেশি।
গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল মানসিক চাপ পরিমাপের একটি উপকরণ তৈরি, ছেলে ও মেয়েদের চাপের তুলনা, সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক উপাদানের সঙ্গে চাপের সম্পর্ক নির্ণয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবেষকদের মতে, এই তথ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরামর্শদাতা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার–সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা ও মানসিক সহায়তা কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।