ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নানা ধরনের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। মাতৃত্বজনিত জটিলতা, নবজাতকের সমস্যা ছাড়াও হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যেই ভিটামিন ‘ডি’-এর ভয়াবহ ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর সুপারিশ অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘ডি’ যুক্ত করার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এ উপলক্ষে দৈনিক যুগান্তর, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভোজ্যতেলে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধকরণ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দৈনিক যুগান্তর ভবনে।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান। বৈঠকে বক্তারা ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘ডি’ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ভিটামিন ‘ডি’ শুধু একটি পুষ্টি উপাদান নয়—এটি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য উপকরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের সবার চাহিদা।”
চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ দীর্ঘায়িত হলে তা বাস্তবায়নের মুখ দেখে না। ভিটামিন ‘ডি’ পরীক্ষার সুযোগ সীমিত এবং ব্যয়বহুল হওয়াও একটি বড় সমস্যা। তিনি লবণে আয়োডিন সংযোজনের উদাহরণ টেনে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে সে কর্মসূচি সফল হয়েছিল, ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব।
এ সময় তিনি জনস্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর জোর দেন এবং বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, লবণে আয়োডিন সংযোজনের সময়ও নানা আপত্তি ছিল, কিন্তু এর সুফল আজ স্পষ্ট। একইভাবে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘ডি’ যুক্ত করা হলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবি–এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ। তিনি বলেন, গত এক যুগে বাংলাদেশে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি।
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রাম ও শহর—কোনো জায়গাতেই খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যাচ্ছে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঘাটতি আরও তীব্র হয়। সূর্যের আলো থেকে উপকার পেতে অন্তত ১৫ মিনিট সরাসরি অবস্থান প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বায়ুদূষণের কারণে সূর্যালোকের উপকারিতা কমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও ঝুঁকিপূর্ণ।
গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক যুগান্তরের স্বাস্থ্য পাতার সহ-সম্পাদক ডা. ফাহিম আহমেদ রুপম।
এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, অধ্যাপক ডা. আনজুমান আরা সুলতানা, অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন, ডা. রওশন জাহান আখতার আলোসহ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বহু বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা।