ইরানে চলমান অস্থির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের জন্য পরিচালিত ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস থেকে জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, “এখনই ইরান ছাড়ুন।” একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো ধরনের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যারা কোনো কারণে ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে নিজ বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে।
এছাড়া ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ ইরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না এবং দ্বৈত নাগরিকদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে।
ভার্চুয়াল দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানায়, মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে।
এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সংকট সমাধানে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজনে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বিমান হামলাসহ একাধিক বিকল্প তার সামনে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারে দ্বিধা করেন না এবং ইরান বিষয়টি ভালোভাবেই জানে। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।