গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ১০ অক্টোবর। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ইসরাইলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ধ্বংসস্তূপ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর এক মাসেরও কম সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় দেড় হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫০ দিনে গাজায় প্রায় ৬০০ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে ৩৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং হাজারো বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
৫৯১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল
৫৯১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলা হয়েছে বিমান আক্রমণ, আর্টিলারি গোলাবর্ষণ এবং সরাসরি গুলিবর্ষণের মাধ্যমে।
মিডিয়া অফিস আরও জানায়:
- ১৬৪ বার বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি
- ২৫ বার ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় অভিযান
- ২৮০ বার বিমান ও গোলাবর্ষণ
- ১১৮টি বাড়িঘর ধ্বংস
এ ছাড়াও গত এক মাসে
৩৫ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েল। বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা বন্ধ রাখা, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, অবকাঠামো ধ্বংস—সবকিছুই প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের ২০ দফা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত
২০ দফা চুক্তির ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরাইল ও হামাস। শর্তগুলোর মধ্যে ‘বিমান ও গোলা হামলাসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার’ বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। কিন্তু বাস্তবে ইসরাইল সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।