• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থের রিট শেখ হাসিনার আমলে বিরোধীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না: রিজভী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা

মোঃ সাইফুল ইসলাম / ৩০৮ Time View
Update : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন এবং সেই অর্থকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে বৈধ আয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করেন। বুধবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল অপরাধ ইউনিট মঙ্গলবার রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেছে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং উত্তোলন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। অভিযোগে বলা হচ্ছে, ‘স্ট্রাকচারিং’ ও ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে এসব টাকা বারবার লেনদেনের মাধ্যমে সাদা টাকা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিএফআইইউ, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি অনুসন্ধান চালায়। আদালতের আদেশে ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট ও রূপগঞ্জে দুটি প্লট জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে তাঁদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। আশির দশকের পরে পরিবহন ব্যবসায় যাত্রা শুরু করেন এনায়েত উল্লাহ। একটি পুরোনো বাস কেনার মাধ্যমে শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন এবং দ্রুত পরিবহন মালিকদের সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে তিনি প্রথমে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ লাভ করেন। সিআইডি বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এনায়েত উল্লাহ পরিবহন খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিতে হতো, নিয়মিত দৈনিক ও মাসিক চাঁদা দিতে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি অংশ তাঁকে দিতে বাধ্য করা হতো; না হলে সেই বাস রাস্তায় চলতে পারত না। সিআইডির দাবি, এই সব চাঁদার টাকাই নানা পথে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সাদা টাকা দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ হলেও পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে এবং সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আরও বিস্তৃত তদন্ত চলছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd