অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, আগে রাস্তাঘাট নারীদের জন্য হুমকি ছিল এখন সাইবার স্পেসেও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক মানুষের মনোভাবই এর মূল দিক নির্ধারণ করে দেবে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নারী উন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতার জন্য স্থানীয় পরামর্শদাতা গ্রুপ এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু হয়েছে এবং এর প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘ইউনিট টু অ্যান্ড ডিজিটাল ভায়োলেন্স অল উইমেন অ্যান্ড গার্লস’; বাংলায় ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, সাইবার জগতে অনিরাপদ নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন, আগে মেয়েরা রাস্তায় ইভটিজিংয়ের চিন্তায় থাকতেন এখন সাইবার স্পেসে প্রবেশ করলেই সাইবার বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং এই বুলিংয়ের ব্যাপ্তি এতটাই বড় যে এটি কেবল পরিচিত কারও মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সারা বিশ্বের যে কেউ মর্যাদাহানিকর আচরণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫৯ শতাংশ নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার আর ৯০ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ জানালেও দেশে সাইবার অপরাধ দমনে থাকা ভালো আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাইবার সহিংসতা রোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, মেয়েরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে এবং তার মন্ত্রণালয়ের কুইক রেসপন্স টিম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমের কাছে পৌঁছে যাবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি আরও শক্তিশালী আইন, সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৪০ শতাংশেরও কম দেশে সাইবার হ্যারাসমেন্ট বা সাইবারস্টকিংয়ের বিরুদ্ধে নারীদের সুরক্ষার জন্য আইন রয়েছে, ফলে বিশ্বের ৪৪ শতাংশ নারী ও কন্যা— প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মানুষ— আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনলাইন হয়রানি, সাইবারস্টকিং, ডিপফেক এবং জেন্ডারড ডিসইনফরমেশন নারীর অধিকারকে বিপর্যস্ত করছে। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, এটি শুধু নারীর সমস্যা নয় বরং সবার সমস্যা, তাই সরকার, সংস্থা এবং নারী— সকলকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স জানান, বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নারীর বিচারপ্রাপ্তি ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি। ইউএন উইমেন প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংহ বলেন, ডিজিটাল সহিংসতার কোনো সীমানা নেই এবং বিশ্বে ১৬ থেকে ৫৮ শতাংশ নারী অনলাইন হয়রানির শিকার, যা প্রায়ই অফলাইনে ছড়িয়ে পড়ে নারীর কণ্ঠরোধ করে এবং জনজীবনে অংশগ্রহণ ব্যাহত করে, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ সম্ভব যেখানে নারী ও কন্যারা সর্বত্র সুরক্ষিত থাকবে।