দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত হলেও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর ফলের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ভুল ও অসংগতি এড়াতে তথ্য একাধিকবার যাচাই করা হচ্ছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ডিপিইর কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুত কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) সারা দেশে এবং ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পার্বত্য জেলাগুলোতে আলাদা সূচিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এবার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে বৃত্তি পাবে। ট্যালেন্টপুলের শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা হারে ভাতা পাবে। পাশাপাশি উভয় গ্রেডে বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর এই সুবিধা চলবে। ভবিষ্যতে বৃত্তির অর্থ চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।