আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিনির্ভর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে হিসাববিজ্ঞান পেশায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা এখন কেবল হিসাবরক্ষক নন, বরং তারা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পেশাগত সততার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই পেশার মূল ভিত্তি হলো মানুষের আস্থা। আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা আধুনিক সমাজ ও পুঁজিবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তারা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হিসাববিজ্ঞানকে শুধু হিসাব মেলানোর বিষয় নয়, বরং আধুনিক অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন নবীন সিএদের অভিনন্দন জানিয়ে পেশাগত নৈতিকতা ও সততার মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এবারের সমাবর্তনে নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২২ থেকে নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করা হয়।